tody news


ঐতিহ্যবাহী চরমোনাইয়ের মাহফিলের নমুনায় জাম্বুরি মাঠের মাহফিলের দ্বিতীয় দিবসের বয়ানে আমিরুল মুজাহিদীন হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) আল্লাহর অস্তিত্ব ও মারেফত সম্পর্কে বলেছেন, মারেফত হলো আল্লাহকে চেনার নাম। সৃষ্টিই তাঁর অস্থিত্বের দলীল। পাহাড়-পর্বত, চন্দ্র-সূর্যসহ যত সৃষ্টি রয়েছে চিন্তা-গবেষণা করে দেখ তাঁর মাঝে আল্লাহর পরিচয় পাওয়া যায়। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, মানুষ সৃষ্টি হয়েছে এক ফোটা পানি থেকে; তা থেকে কিভাবে অস্তিত্বে এসেছে, কিভাবে লালিত-পালিত, শিশু থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত মানবজীবনের ওপর আল্লাহর কত মেহেরবানী আছে তা নিয়ে চিন্তা এবং গবেষণা করলেই আল্লাহর অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ জাম্মুরি মাঠে তিন দিন ব্যাপী (২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি) বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকিরের দ্বিতীয় দিনের বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই এসব কথা বলেন।
সর্বত্র ভেজালের দৌরাত্ম্য চলছে মন্তব্য করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আজকাল মারেফতেও ভেজাল ঢুকে পড়েছে। এক শ্রেণির মূর্খ বাবা ও দরবারি পীর সাহেবরা শরীয়ত ও মারেফতকে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ হিসেবে প্রচার করে মুসলমানদের মাঝে বিভক্তি এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। পীর সাহেব হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শরীয়ত ছাড়া মারেফত হতে পারে না। আল্লাহর রাসূল (সা.) মুসলিম উম্মাহর জন্য কুরআন ও সুন্নাহ রেখে গেছেন। কুরআন-সুন্নাহের অনুসরণের পূর্ণতার মাঝেই প্রকৃত মারেফত। মারেফতকে শরীয়তকে বিচ্ছিন্ন করে যারা দেখে তারা ভণ্ড, এদের থেকে মুসলমানদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।
মাহফিলে বিশেষ অতিথির বয়ান পেশ করেন নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়েদ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (সাহেবজাদা মরহুম পীর সাহেব)। বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি চট্টগ্রাম জেলা সদর (সভাপতি) অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে মাহফিলে বরেণ্য ওলামায়ে কেরামের মধ্যে তশরীফ এনেছেন, জামিয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ আহমদ, জামিয়া নাছিরুল ইসলাম ফতহপুরের মুহতামিম হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান, হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ ইসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, নাজির হাট বড় মাদরাসার মুহতামিম শায়খুল হাদীস আল্লামা মুহাম্মদ ইদরীস, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা হযরত মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, হযরত মাওলানা তাজুল ইসলাম, রাউজান সাইয়েদুশ শুহাদা মাদরাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা হাজী মুহাম্মদ ইউসুফ, জামিয়া পটিয়ার মুহাদ্দিস ও মাসিক আত-তাওহীদের সহ-সম্পাদক হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ হামযা, জামিয়া পটিয়ার সিনিয়র শিক্ষক হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আখতার হোসাইন, হযরত মাওলানা আবদুল মতীন, হযরত মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ, হযরত মাওলানা মুফতী দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, হযরত মাওলানা শেখ আমজাদ হুসাইন, হযরত মাওলানা আবদুল্লাহ, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জিহাদী প্রমুখ।
মাহফিলে মাওলানা ইউসুফ সাহেব বলেন, চরমোনাইয়ের মাহফিল জিকিরঅলাদের মাহফিল, এখানে মানুষ এলে সোনার মানুষে পরিণত হয়। আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফী, নায়েবে আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ, আল্লামা শায়খ হারুন ইসলামাবাদী (রহ.)-সহ দেশের সকল হক্কানী ওলামায়ে কেরাম চরমোনাই তরীকা হক বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন, দেশের সর্বস্তরের হক্কানি ওলামায়ে কেরাম এই চরমোনাইঅলাদের সাথে আছে, এটি একটি মকবুল তরীকা।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন